বিশ্বের সাতটি প্রধান রফতানিকারক অঞ্চলে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তরল দুধ উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে সামনের দিনগুলোয় কমে আসতে পারে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে রাবোব্যাংকের গবেষণা শাখা রাবোরিসার্চ। খবর আইরিশ ফারমারস জার্নাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে তরল দুধ উৎপাদন ২০২১ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড নতুন মৌসুমের শুরুতেই রেকর্ড দুধ উৎপাদন করেছে। এ প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কৃষকদের মুনাফা বৃদ্ধি, গত বছরের রোগব্যাধি থেকে পুনরুদ্ধার ও অনুকূল আবহাওয়া।
তবে উৎপাদন বাড়লেও বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল থাকায় রফতানিযোগ্য উদ্বৃত্ত তৈরি হচ্ছে। এতে ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত দুগ্ধজাত পণ্যের দামে নিম্নমুখী ধারা বজায় থাকতে পারে।
রাবোরিসার্চের গ্লোবাল ডেইরি স্ট্র্যাটেজিস্ট মেরি লেডম্যান বলেন, ‘ভোক্তারা ভবিষ্যৎ আয়, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি বা বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। এ কারণে তাদের ঐচ্ছিক খরচ কমছে। খাদ্যসেবা খাতের নানা ক্ষেত্রে এর প্রভাব স্পষ্ট।’
লেডম্যান জানান, চীনে এখনো দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা নিম্নমুখী। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চাহিদা পুনরুদ্ধারের সংকেত মিশ্র। যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমবাজার ও শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ ভোক্তা আস্থায় চাপ তৈরি করছে। দুধ ও দুগ্ধপণ্যের চাহিদা পুনরুদ্ধারে ভোক্তা আস্থার উন্নতি অপরিহার্য।
বৈশ্বিক বাজারে এ অনিশ্চয়তার প্রতিফলন দেখা গেছে সর্বশেষ গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) আন্তর্জাতিক নিলামে। এ সময় দুগ্ধজাত পণ্যের জিডিটি মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপ দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়িয়েছে। অন্যদিকে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে ক্রয়চাহিদা প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোক্তাপক্ষের ব্যয়চাপও দুগ্ধপণ্যের ব্যবহার সীমিত করে তুলেছে। ফলে নিলামে প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে দাম কমেছে দুগ্ধজাত পণ্যের।
নিউজিল্যান্ড এক্সচেঞ্জের (এনজেডএক্স) হেড অব ডেইরি ইনসাইটস ক্রিস্টিনা আলভারাডো জানান, এ নিলামে চীনের অংশগ্রহণ বেড়ে মোট ক্রয়ের অর্ধেকে পৌঁছেছে। আগের নিলামে যা ছিল ৩৪ শতাংশ। তবে এ সময় অন্য সব অঞ্চলের চাহিদা কমেছে। চাহিদার এ পুনর্বিন্যাস দাম কমার পেছনে বাড়তি ভূমিকা রেখেছে।
ডাচ বাজারেও স্পট দামে পতন লক্ষ করা যাচ্ছে। মার্চে প্রতি টন মাখনের দাম ৭ হাজার ৪২৩ ইউরোয় পৌঁছলেও বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ইউরো কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৬০ ইউরোয়। একইভাবে ননি ছাড়া গুঁড়া দুধের (এসএমপি) দাম জানুয়ারির ২ হাজার ৫৫৫ ইউরো থেকে নেমে গত সপ্তাহে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৪০ ইউরোয়।
লেডম্যান জানান, চাহিদা বাড়লে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দরপতন কিছুটা কমতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ অব্যাহত থাকবে।